জীবনযুদ্ধে হার মানলেন সুভাষ

0


এ কোন সকাল, রাতের থেকে অন্ধকার। ভোরের আলো ফোটার আগেই খবরটা ছড়িয়ে পড়েছিল দাবানলের মতো  । ময়দানের সুভাষ আর নেই। প্রয়াত সুভাষ ভৌমিক। ইকবালপুরের নার্সিংহোমে শেষ নিঃসাশ ত্যাগ।  মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। 
 দীর্ঘদিন কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন।। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে নিয়মিত তাঁর ডায়ালিসিস চলছিল। পাশাপাশি কয়েকদিন ধরে আবার বুকে সংক্রমণও হয়েছিল। অসুস্থ হয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ময়দানের ভোম্বলদা ভরতি ছিলেন একবালপুরের এক নার্সিংহোমে।
মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের হয়ে দাপিয়ে খেলেছেন।
জাতীয় দলের হয়ে ৬৯ টি ম্যাচ খেলেছেন
ঈস্টবেঙ্গলকে জাতীয় লীগ জিতিয়েছেন ২ বার। চার্চিল ব্রাদার্স কে জিতিয়েছেন আই লীগ। ২০০৩সালে আসিয়ান কোচিং কেরিয়ার জুড়ে শুধুই সাফল্য। ২০১৩ সালে পান ক্রীড়া গুরু সম্মান। 

যিনি কখনও হেরে পিছিয়ে আসার লোক ছিলেন না। যাঁর জীবনটাই লড়াইয়ে পরিপূর্ণ ছিল। সেই সুভাষ ভৌমিক সকলকে হারিয়ে চোখের জলে ভাসালেন বাংলা তথা ভারতের ফুটবল মহলকে। ভারতীয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড ছিলেন সুভাষ ভৌমিক। তাঁর সময়ে ফুটবল ময়দানে একের পর এক ফুল ফুটিয়ে গিয়েছিলেন।এমন দিনে শোক হত তার ছাত্র রাও।সুভাষের প্রয়াণের খবরে শোকাহত বাইচুংও। তিনি বলছেন, "আমার সুভাষদার সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক ছিল। তাঁর সঙ্গে অনেক সুন্দর স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ইস্টবেঙ্গলে আশিয়ান কাপ, আই লিগ এবং আরও অনেক টুর্নামেন্ট একসঙ্গে জিতেছি। সুভাষদা ভীষণ সোজাসাপটা একজন মানুষ ছিলেন। যার জন্য অনেক বিতর্কও হত। কিন্তু আমি ওই জন্যই মানুষটাতে এত বেশি ভালোবাসতাম। তিনি সব সময় মনে যা আসত সেই কথাই বলতেন। তোমাকে অনেক মিস করব ভোম্বল দা। শান্তিতে থাকো।"প্রাক্তন ফুটবলার অ্যালভিটো ডি'কুনহা বলেন, "আজ সত্যিই খুব দুঃখের দিন।
সকালে খবরটা পাওয়ার পর খুবই দুঃখ পেলাম। সুভাষ ভৌমিক একজন ভাল মানুষ, ভাল কোচ ছিলেন। ওঁনার সব গুণই ছিল। আমার কাছে উনি একজন আলাদা মানুষ ছিলেন।কারণ উনি আমার কোচ ছাড়াও বাবার মতো ছিলেন।"

শুক্রবারই অসুস্থ সুভাষের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামহল। ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের উদ্যোগে একটি জরুরি সভা ডাকা হয়। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই তারা দেশে পাড়ি দিলেন ময়দানের ভোম্বল দা ।
তার মৃত্যতে শোকের ছায়া ময়দানে।  শোক প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুভেন্দু অধিকারী।



ইস্টবেঙ্গলের কোচ হিসেবেই সব থেকে বেশি সফল তিনি। দলকে যেমন আশিয়ান কাপ জিতিয়েছেন, তেমনই পরপর দু'টি আই লিগও দিয়েছেন সুভাষ ভৌমিক। শনিবার ভোররাতে ভারত তথা ময়দানের প্রবাদপ্রতিম কোচের প্রয়াণে তাই শোকাচ্ছন্ন লাল-হলুদ।এবার চির তরে লাল হলুদ তাঁবুতে জায়গা হচেছ প্রিয় সুভাষ এর ।
দেবব্রত সরকার বলেন, '১ ফেব্রুয়ারি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে সুভাষ ভৌমিকের স্মরণসভার আয়োজন করা হবে। প্রাক্তন ফুটবলাররা উপস্থিত থাকবেন। কোভিড বিধি মেনেই হবে এই সভা। সুভাষ দাকে নিয়ে একটা মিউজিয়াম তৈরি করা হবে। সেখানে আশিয়ান কাপ হাতে ওনার একটা মূর্তি থাকবে।' 
মোহনবাগানের অর্থ সচিব দেবাশিস দত্ত  শোকাহত। তিনি বলেন, "ওঁর ম্যান ম্যানেজমেন্ট এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা অতুলনীয় ছিল। বিরাট মাপের মানুষ ছিলেন সুভাষদা। এত দ্রুত চলে যাবেন ভাবিনি। তবে যেখানেই যান, উনি সুভাষ ভৌমিকই থাকবেন। ওঁকে কেউ বদলাতে পারবে না। ওঁর সব থেকে বড় গুণ নিজস্বতা। '৭০-৮০ এর দশকে অনেক ফুটবলারই ছিল। কিন্তু উনি একটু ভিন্ন ছিলেন।" আরও বর্ণময় চরিত্রের সমাপ্তি হল ভারতীয় ফুটবলে।

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)